পূজা করি আমরা সনাতনধর্ম অবলম্বীরা?
প্রথমেই জানা দরকার আমাদের পূজা শাব্দিক অর্থে “মূর্তি পূজা” নয়,
বরং এর উচ্চারণ হবে “প্রতিমা পূজা”।
আমরা কখনই মূর্তিকে পূজা করি না। মূর্তির মধ্য প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে তাকে ঈশ্বর জ্ঞানে প্রতিমা পূজা করি।
প্রতিমার মাধ্যমে ঈশ্বরের পূজা করার অর্থ হল ঈশ্বরের প্রতি নিজের বিশ্বাসকে দৃঢ় করা।
কর্ম চঞ্চলতা ছিল না। যজ্ঞানুষ্ঠানই ছিল ঋষিদের প্রধান কর্ম।
যজ্ঞের মাধ্যমে হোমানল জ্বালিয়ে তখন দেবতাদের আহ্বান করা হত,
অগ্নির মাধ্যমেই দেবতাদের উদ্দেশ্য দেওয়া হতো পুষ্পাঞ্জলি ।
এই কলিযুগে সনাতন ধর্মে নিরাকার উপাসনা প্রায় অসম্ভব।
কারণ, কলি যুগে আমাদের আয়ু অল্প, কলহ প্রিয়, অলস, মন্দগতি, ভাগ্যহীন, বিভিন্ন রোগাদি দ্বারা আক্রান্ত ও দুষ্ট মন এতই চঞ্চল যে একে নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য ব্যাপার।
চোখের সামনে তার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠবে।
সাধারন মনোনিবেশ তথা চিত্তকে বিষয়বাসনা থেকে
সরিয়ে একাগ্রচিত্তে ভগবানকে স্মরণ করার জন্য
প্রতিমাপূজাএকটি বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি।
একটি শিশুকে প্রথম পাঠদানের সময় অনেক
রঙিন ছবি সম্বলিত বই দেওয়া হয় যাতে ঐ বইটির
প্রতি শিশুর আকর্ষণ বাড়ে। এখানে ছবি মুখ্য নয়,
মুখ্য হচ্ছেবর্ণমালা।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই যে,আমাদের আদি ধর্ম গ্রন্থ
বেদে নিরাকার উপাসনারকথা বলা হয়েছে।
কিন্তু, কলিযুগে জীবের পারমার্থিক উন্নতির উদ্দেশ্য গীতার দ্বাদশ
অধ্যায়ে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের মধ্যে এই
আলোচনা হয়েছে।
কুরুক্ষেত্র যুদ্বে অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করছে,
নিরাকার উপাসনা ও সাকার উপাসনার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কোনটি ?
''এবং সততযুক্তা যে ভক্তাস্তাং পর্যুপাসতে,
যে চাপ্যক্ষরমব্যক্তং তেষাং কে যোগবিত্তমঃ'' ৷।১২/ ১ ৷৷
অনুবাদঃ অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন — এভাবেই নিরন্তর ভক্তিযুক্ত হয়ে যে সমস্ত ভক্তেরা যথাযথভাবে তোমার( সাকার ) আরাধনা করেন এবং যাঁরা ইন্দ্ৰিয়াতীত অব্যক্ত ব্ৰহ্মের( নিরাকার ) উপাসনা করেন , তাদের মধ্যে কারা শ্ৰেষ্ঠ যোগী ।
''ময্যাবেশ্য মনো যে মাং নিত্যযুক্তা উপাসতে,
শ্ৰদ্ধয়া পরয়োপেতাস্তে মে যুক্ততমা মতাঃ'' ৷৷১২/ ২ ৷৷
অনুবাদঃ যাঁরা তাদের মনকে আমার সবিশেষ রুপে নিবিষ্ট করেন এবং অপ্ৰাকৃত শ্ৰদ্ধা সহকারে নিরন্তর আমার ( সাকার ) উপাসনা করেন ,আমার মতে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী।
অব্যক্ত উপাসনা দেহাভিমানী জীবের পক্ষে সম্ভবপর নয়।
দেহাভিমানী জীবের জন্য সগুণ সাকার উপাসনাই শ্রেষ্ঠ ও সহজতর।
( সংগ্রহ )

